-->

ফুড ডেলিভারি ব্যবসা - অল্প পুঁজিতেই বেশি লাভ!

গত দুয়েক বছর ধরে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশে হুট করেই বেড়ে উঠেছে রেস্টুরেন্ট ও স্ট্রেট ফুড। এ সুযোগে ফুড ডেলিভারি ব্যবসাও আশার মুখ দেখছে।

ফুড ডেলিভারি বিজনেস কনসেপ্ট আমাদের দেশে অতোটা পুরাতন নয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন একটা হাইপ তৈরি করছে এই ফুড ডেলিভারি ব্যবসার ধারণা। আবার অন্যদিকে কোভিড মহামারী পরিস্থিতিতে মানুষ ফুড ডেলিভারি নিতেই বেশি আগ্রহী। তাহলে বুঝতেই পারছেন ফুড ডেলিভারি ব্যবসাই হতে পারে আপনার উপার্জনের ভালো একটি উপায়।

ফুড ডেলিভারি সার্ভিস

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ফুড ডেলিভারি ব্যবসার বিষয়ে বিস্তারিত, সম্ভাবনা ও কিভাবে ফুড ডেলিভারি ব্যবসা শুরু করবেন এ বিষয়ে জানবো।

আরো দেখুন: ব্যবসা বাড়াতে যে ৫ টি বিজনেস ডাইরেক্টরি সাইটে একাউন্ট করা উচিত!

ফুড ডেলিভারি কনসেপ্ট

ব্যস্ত জীবনে সবকিছু আরামসে পেতে চায় মানুষ। এজন্য কোনো পণ্য হোম ডেলিভারি নিতে চায়। পণ্য যদি হোম ডেলিভারি নেওয়া যায় তাহলে খাবার কেনো হোম ডেলিভারি নেওয়া যাবে না? মুলত এ ধারণা থেকেই ফুড ডেলিভারি বিষয়টি সামনে আসে।

পণ্য ডেলিভারি আর ফুড ডেলিভারির মধ্যে শুধু সময়ের পার্থক্য। কারণ খাদ্য হলো পচনশীল বিষয় আর খাবার অর্ডার করে মানুষ খাওয়ার জন্য তাই দ্রুত খাবার পৌঁছে দেয়াই ফুড ডেলিভারির মূলনীতি।

বাংলাদেশে এ ধারণা বেশী দিনের না, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণদের মাঝে ভালো একটি জায়গায় স্থান করে নিয়েছে। স্বীকার করতেই হবে এক্ষেত্রে ফুড পান্ডা কিংবা পাঠাও ফুডের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ন।

ফুড ডেলিভারি ব্যবসার ভবিষ্যত ও সম্ভাবনা

করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও আশার আলো দেখছে বিভিন্ন হোম ডেলিভারি সার্ভিসগুলো। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফুড ডেলিভারি সার্ভিস, মানুষ এখন বাইরে বের না হয়ে ঘরে বসেই খাবার অর্ডার করছে।

তাছাড়াও কর্মজীবনে মানুষ অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। অনেকেরই পছন্দের খাবার রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার মতো সুযোগ হচ্ছে না। তারাই মূলত ঘরে বসেই পছন্দের খাবার খেতে পারছে খুবই সহজে। তাছাড়া ফুড ডেলিভারির ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জও অনেক কম।

অর্থাৎ ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের ভবিষ্যৎ অবশ্যই উজ্জ্বল। মানুষ যতদিন খাবে, ততদিনই চলবে সম্ভাবনাময় এ খাত। আর নতুন করে ভোজন রসিক বাঙালির কথা বলার প্রয়োজনবোধ করছি না।

এই ফুড ডেলিভারি ব্যবসা করে আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই ভালো পরিমান উপার্জন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার শুধু একটু ভালো পরিমান মার্কেটিং হলেই যথেষ্ট।

ফুড ডেলিভারি ব্যবসা যেভাবে শুরু করবেন:

এক্ষেত্রে আমি তিনটি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো, ফুড ডেলিভারি বিজনেস করতে গিয়ে আপনি এগুলো ফলো করতে পারেন:

  • ১. নিজের তৈরি খাবার ডেলিভারি
  • ২. অন্যের/রেস্টুরেন্টের খাবার ডেলিভারি
  • ৩. স্টার্টআপ/বড় পরিসরে ডেলিভারি
ফুড ডেলিভারি বিজনেস যেভাবে শুরু করবেন

১. নিজের তৈরি খাবার ডেলিভারি

অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে একদম নিজের বাসা থেকেই শুরু করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে নিজের রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে। আর উল্লেখ্য এখানে আপনিই ডেলিভারি ম্যান!

আপনার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে খাবারের মানের উপর। ভালো কিছু অথবা বিখ্যাত খাবারগুলো আপনি পরিবেশন করতে পারেন। তার আগে আপনি বিভিন্ন খাবার বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। বঙ্গ উইকি থেকেও বিভিন্ন রান্নার রেসিপি দেখতে পারবেন আমাদের রান্নার রেসিপি ক্যাটাগরি থেকে।

প্রথমেই আপনাকে একটি ভালো করে ফেসবুক পেইজ সাজাতে হবে। ওই ফেসবুক পেইজের মাধ্যমেই অর্ডার আসবে ও মানুষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। ব্যবসার প্রচারের জন্য আপনি টার্গেট লোকেশনে আপনার ফেসবুক পেইজটি প্রমোট করতে পারেন।

নিজের তৈরি খাবার ডেলিভারির সার্ভিস আপনার নিজের এলাকা/শহর দিয়েই শুরু করতে পারেন। যেহেতু ডেলিভারি আপনি নিজেই করবেন তাই নিজের বাইক থাকলে এক্ষেত্রে সবথেকে ভালো হয়।

সুতরাং বুঝায় যাচ্ছে এখানে সব কাজ শুধু আপনার নিজেরই। বাড়তি খরচ বলতে কিছু নেই। তাই খুব সহজেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব।

২. অন্যের/রেস্টুরেন্টের খাবার ডেলিভারি

রান্নাবান্নার ঝামেলা নিতে চান না? শুধু থার্ড পার্টি হিসেবে অন্যের তৈরি খাবার বা রেস্টুরেন্টের খাবার ডেলিভারি করতে চান? তাহলে আপনার জন্য সবথেকে সেরা উপায় হলো ২ নং।

শুরুটা করতে পারেন আপনার নিজের শহর থেকেই কয়েকজন বন্ধু মিলে। এক্ষেত্রে বাইক থাকলে সবথেকে ভালো হয়, কারণ এ সেক্টরে সফলতার মূলনীতি হলো সময়ের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান।

প্রথমেই আপনাকে আপনার শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের সাথে কথা বলে নিতে হবে। তারপর ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সেসব খাবারের ছবি পোস্ট করতে হবে। কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতে হবে। ব্যবসার প্রচারের জন্য ফেসবুক পেজটি প্রমোট করতে পারেন।

এ উপায়ে শুধুই লাভ কারন আপনাকে কোনো ইনভেস্ট করতে হচ্ছে না। ডেলিভারি চার্জের পুরোটাই আপনি পাচ্ছেন। আর রেস্টুরেন্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী তাদের লাভের একটা অংশ পেয়ে যাচ্ছেন।

এক্ষেত্রে নিজের খাবার তৈরী করতে হচ্ছে না। বন্ধুদের সাথে এমনিতেও তো ঘুরাঘুরি করেনই, এবার নাহয় ঘুরাঘুরি থেকে কিছু টাকা আয় হলো। অনেকটা মেলাও দেখা হলো, জিলাপি বেচাও হলো!

৩. স্টার্টআপ বা বড় পরিসরে

ফুডপান্ডা, পাঠাও ফুডের মতো বড় পরিসরে ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের কথা ভাবছেন? এগুলোকে বলে স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম।

ফুড ডেলিভারি যেহেতু ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাময় একটি খাত তাই প্রথমেই এটা নিয়ে প্ল্যাটফর্ম দাড় করাতে চাইলে যথাযথ পরিকল্পনা, ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং করতে হবে। যেহেতু প্রতিযোগিতা বাড়বে তাই মার্কেটিং বিষয়টাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দেখে নিন:

কনটেন্ট মার্কেটিং কি? কনটেন্ট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?
ইউটিউব মার্কেটিং কি? কিভাবে করবেন ইউটিউব মার্কেটিং?

আপনি এক্ষেত্রে রাজধানী, বিভাগীয় শহর কিংবা আস্তে আস্তে পুরো বাংলাদেশ নিয়ে এ ডেলিভারি সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে পারেন। এক্ষেত্রে অনেক লোকবলের প্রয়োজন, এতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রথমেই ফেসবুক পেইজ, ইউটিউবে ভালো মার্কেটিং করতে হবে। দেশব্যাপী স্টার্টআপ হলে অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইলের জন্য অ্যাপ হলে সবথেকে ভালো হয়। কারণ মানুষজন মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতেই সবথেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ফুড ডেলিভারি স্টার্টআপে মূল ইনভেস্ট শুধুমাত্র মার্কেটিং করতেই খরচ হয়। কারণ এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে আপনি থার্ড পারসন, যার কাজ বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া।

যেহেতু মার্কেটিং ছাড়া আর কোথাও ইনভেস্ট করা লাগে না, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। এর সবথেকে ভালো উদাহরণ ফুড পান্ডা নিজে!

শেষ কথা

ফুড ডেলিভারি ব্যবসা খুবই সময় উপযোগী একটি বিজনেস আইডিয়া। সঠিক ভাবে মার্কেটপ্লেস জেনে এ খাতে নামলে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব।

আজকের এ পোস্টে ফুড ডেলিভারি ব্যবসা করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। কোনো মন্তব্য কিংবা পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।