-->

৮ বিপজ্জনক মোবাইল এপ্লিকেশন যা আপনার স্মার্টফোনের জন্য ক্ষতিকর

বিপজ্জনক মোবাইল অ্যাপ

যদি আপনি স্মার্টফোন ব্যবহারকারি হোন, তাহলে নির্দ্ধিধায় বলা যায় প্রাত্যহিক জীবনের কাজ সহজতর করতে আপনাকে কোন না কোন মোবাইল এপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হয়। প্রয়োজনীয় অনেক এপসের ব্যবহারের পাশাপাশি আমরা অনেক সময় অসচেতনতাবশত অনেক এপ্লিকেশন ইন্সটল করি ঠিকই কিন্তু পরবর্তীতে আর ব্যবহার করা হয়ে উঠে না।

আবার সেই এপ্লিকেশন আমাদের জন্যে সত্যিই কল্যাণকর নাকি ক্ষতিকর তা জানি না বা বুঝে উঠতে পারি না ৷ অনেক সময় বুঝে উঠার আগে বড় ক্ষতি হয়ে যায়।

কারণ হাতে থাকা আপনার এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোনের এপ্লিকেশনটিও অসচেতনতাবশত পাচার করে দিতে পারে আপনার সকল ব্যক্তিগত তথ্য। যার ফলে আপনি আমি পড়তে পারি কঠিন বিপদে।

তাই আমাদের মোবাইল এপ্লিকেশন নির্বাচনের এবং ব্যবহারের সময় মোবাইল ফোন এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অনেক বেশি সাবধান এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যা আমাদের ভবিষ্যতের ঝুকিটা কিছুটা হলেও লাঘব করবে।  

এখন প্রশ্ন হলো

কোনটা ভালো এপ্লিকেশন আর কোনটা খারাপ তা আমরা বুঝবো কেমন করে?

আপনাকে সে বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক করতেই আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি এন্ড্রোয়েড ফোনের জন্য ৮টি বিপজ্জনক এপস সমন্ধে। চলুন শুরু করা যাক:

৮ বিপজ্জনক মোবাইল এপ্লিকেশন যা আপনার স্মার্টফোনের জন্য ক্ষতিকর

আরো দেখুন:

মোবাইলের জন্য ৫টি সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ
মোবাইলের জন্য ৫টি সেরা ফটো এডিটিং অ্যাপ

কোন এপসগুলো ক্ষতিকর?

তার একটা লম্বা ফিরিস্তি আপনি পেয়ে যাবেন গুগলে সার্চ করলেই। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই একই ক্যাটেগরির এপস দিয়ে পুরো আর্টিকেল ভরিয়ে তুলেন। আবার অনেকেই আসল এপসগুলোকেই এড়িয়ে চলেন৷ দুটো বিষয়কে মাথায় রেখেই আমাদের আজকের বিপজ্জনক এপসের তালিকা।

যা খুব সহজেই আপনাকে একটা ধারণা দিবে।

থার্ডি পার্টি এপস

গুগল প্লে-স্টোরে নেই কিংবা থাকলেও তা ফ্রিতেই নেই। এমন এপসগুলো ডাউনলোড করতে আমাদের সচরাচর শরণাপন্ন হতে হয় গুগল সার্চের কাছে। সার্চ করেই সেখান থেকেই পেয়ে যাই বিভিন্ন এপস। যাকে ইন্টারনেটের ভাষায় বলা হচ্ছে থার্ডপার্টি এপস। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি এই এপসগুলো ভালো কি কন্দ? হয়তো বা না। কিন্তু জানেন কি এই এপসই চুরি করতে পারে আমাদের যাবতীয় সব তথ্য? হুমকির মুখে ফেলতে পারে আমাকে আপনাকে?

হয়তো ভাবেননি। কিন্তু আজকে ভাবতে বসুন। থার্ডপার্টি এপসগুলোর সাথে সচরাচর বিভিন্ন ম্যালওয়ার কিংবা স্পাইওয়্যার চলে আসে। যার কারণে উপকারের চাইতে অপকার হওয়ার চান্সটাই এখানে বেশি। এখানে বলছি না একেবারে ব্যবহার না করতে। বরং সেগুলোই করুন যার সাথে আপনি পরিচিত এবং যেগুলো একটু ফ্যামিলিয়ার। তবে ভুলেও কম রেটেড এপস এখান থেকে ডাউনলোড করতে যাবেন না। এক্ষেত্রে বাজে কোনো ঘটনার ভুক্তভোগী হয়ে যেতে পারেন অজান্তেই।

বুস্টিং এপস

ব্রাউজিং এর সময় হঠাৎ করেই এড ভেসে উঠে,

'আপনার ফোনকে ক্লিন করুন। নিমেষেই ক্লিন করে ফেলুন সব র‍্যাম।' 

হ্যা বলছি র‍্যাম, মেমোরি কিংবা ব্যাটারি বুস্টিং এপসগুলোর কথা। জীবনে একবার হলেও এর ফাদে নিশ্চয় পা দিয়েছেন অজান্তেই। ফাদ কেন বলছি?

ফাদ এজন্য বলছি যে, আপনার ফোনে যেখানে ইন-বিল্ট ক্লিনার সিস্টেম থাকে সেখানে কেন দরকার এমন এপসের? নিশ্চয় কোনো অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে এর তাই না? ঠিক তাই। র‍্যাম ক্লিনিং এর এড দেখালেও আসলে এরা নিজেরাই র‍্যাম খেয়ে নেয়। আবার এই এপসগুলোর সাথে আসতে পারে বিভিন্ন ভাইরাসও। সেই সাথে আপনার ইনফো কালেক্ট করে পাঠিয়ে দিতে পারে অন্য কারোর কাছে। আপনি কি চাইবেন ওমনটা হোক? কিংবা চাইবেন আপনার লোকেশন সমন্ধে কেউ জেনে যাক? নিশ্চয় না। তাহলে কেন কোনো কারণ ছাড়াই এমন এপস ডাউনলোড করবেন? কেনই বা বিনা অনুমতিতে দিবেন এসব তথ্য? আর এসব তথ্যই কিন্তু বড় বড় কোম্পানিরা এড চালানোর জন্য ব্যবহার করবে। ফলে নানা এড আসবে মোবাইলে অহরহ।

ইউসি ব্রাউজার

পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষের পছন্দের ব্রাউজার এটি। সেই সাথে ভারত এবং চীনেও সেরা ব্রাউজারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। আর এসব কারণেই আপনিও হয়তো এপসটি নিজের ফোনে ইনস্টল করেছেন। কিন্তু কতখানি সেফ এটি তা কি জানেন? আমি যদি বলি এর ভয়াবহতা সমন্ধে তাহলে হয়তো বা আপনার চোখ কপালে উঠবে। বিশ্বাস হচ্ছে না?

তাহলে শুনুন। ইউসি ব্রাউজার আপনার ফোনের আইএমইআই নাম্বার কালেক্ট করে। সেই সাথে সংগ্রহ করে লোকেশন এবং যাবতীয় তথ্যাদি। প্রশ্ন করতে পারেন তাতে কি সমস্যা। সমস্যাটা হলো এসব কালেক্ট করে করছে টা কি?

একটু সচেতন হলে তাও বুঝতে পারবেন৷ আলি বাবার মালিক জ্যাক মার এই এপসটি মূলত যাবতীয় সব তথ্য আলিবাবার ডাটাবেজে পাঠায়৷ আর তা ব্যবহার করে আলি বাবা তার এড টার্গেট হিসাবে নির্ধারণ করে আপনাকে। যার ফলে দেখবেন আপনি যা নিয়ে সার্চ করছেন ঠিক তাই ভেসে উঠছে ব্রাউজ করার সময়। জনপ্রিয় এই এপসটি এভাবেই আপনাকে মার্কেটিং পণ্যে রূপান্তর করে ফেলেছে।

এন্টিভাইরাস এপস 

এন্টিভাইরাস নামটি শুনলেই এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে ইচ্ছা করে তাই না?

কিন্তু আদৌ কি তা করা উচিত? ভাবতে পারেন এমনটা কেন বলছি। আসলে এন্টিভাইরাস হিসাবে আপনি যা ইউজ করছেন তা হয়তো বা নিজেই একটা ভাইরাস। এখন প্রশ্ন করতে পারেন,

'কি বলছেন ভাই?' 

জ্বী ব্যাপারটি এমনই। বর্তমানে প্রায় সকল ফোনের সাথে ইন-বিল্ট কিছু এন্টিভাইরাস ফিচার দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু তারপরও কেন এই এপসগুলো? তা মূলত কিছু উদ্দেশ্যে। আর তা উপরের এপসগুলোর মতোই। আপনি অজন্তেই অন্যের মার্কেটিং পণ্যে পরিণত হচ্ছেন। আপনার ফোন স্ক্যান করার যে পার্মিশন এসব এপস চায় তার মধ্যে একটি হলো স্টোরেজ। যার মাধ্যমে নিমেষেই এরা এক্সেস করতে পারে আপনার ফাইলগুলোতে।

এছাড়াও কন্টাক্ট ইনফো কিংবা লোকেশন তো রয়েছেই। এছড়াও ম্যালওয়্যার কিংবা স্পাইওয়্যার এটাকের ভুক্তভোগীও হতে পারেন। আপনার তথ্য এভাবে কেউ চুরি করবে তা নিশ্চয় স্বপ্নেও চাইবেন না। সেই সাথে স্পাইওয়্যার কিংবা ম্যালওয়্যার এটাক থেকে বাচতেও চাইবেন আশা করি। আর তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এসব এপস থেকে দূরে থাকতে।

শেয়ার ইট এপ্লিকেশন

মোবাইল বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন আর শেয়ারইট সমন্ধে জানেন না, এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুরূহ। ফাইল শেয়ারিং এর জন্য বহু আগে থেকেই নাম কুড়িয়ে আসছে এপটি। কিন্তু গত কয়েক বছরে এত প্রচুর চেঞ্জ এসেছে। যা সম্পর্কে আমরা হয়তো বা সন্দিহান। আর তাই এর প্রাইভাসি ফ্যাক্টগুলো নিয়ে জানা নেই। এমন যদি হয় পরিস্থিতি তবে একাধিক ঘটনার শিকার হতে পারেন।

অন্য কোনো এপসে যদিও বা অনেক পার্মিশন ডিনাই করা যায়। তবে শেয়ারইট এর ক্ষেত্রে স্টোরেজ পার্মিশন দিতেই হয়। এটা কিছুটা বাড়ির চাবি চোরের হাতে দেয়ার মতো। আর বেশিক্ষণ তাকে তা দিয়ে রাখলেই পুরো বাড়িটাই উধাও হতে যেতে পারে। শেয়ারইটও ঠিক তেমন। আপনি যেমন একে ব্যবহার করছেন ফাইল শেয়ারের জন্য। ঠিক তেমনি এই এপটিও আপনাকে ব্যবহার করছে আপনার তথ্য পাচারের জন্য। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহের রোল প্লে করলেও দীর্ঘযাত্রায় এর ভয়াবহতা সীমাহীন। আর তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর আন-ইনস্টল করার অনুরোধ করব।

ফাস্ট চার্জিং এপ্লিকেশন

আচ্ছা একটা কথা বলুন তো চার্জিং কি এপসের মাধ্যমে হয়? হলে কিভাবেই বা তা সম্ভব?

আসলে এসব কথাই ভুয়া। চার্জিং বিষয়টা পুরোটাই জড়িত আপনার হার্ডওয়্যার এর সাথে। সফটওয়্যার এর সাথে এর কোনো সম্পর্কই নেই। তাই ফাস্ট চার্জার নিয়েও আশানুরূপ ফল পাবেন না যদি আপনার ফোনে ফাস্ট চার্জিং ক্যাপাব্লিটি না থাকে। সেখানে কিভাবে একটা এপস থেকে এমন সার্ভিস আশা করা যায়? এটা কি বোকামি নয়?

হ্যা, বোকামিই বটে। শুধুমাত্র কিছু চোখ ধাধানো এড দেখেই এমন এপসের প্রেমে পড়ে গেলে হয়তো সাইবার এটাকেরও ভুক্তভোগী হিতে পারেন৷ সেই সাথে র‍্যাম কিংবা সিপিইউ এর অনেকখানি এসব এপসই খেয়ে ফেলবে। যার ফলে আবার সার্চ করবেন র‍্যাম বুস্টিং এপস। দীর্ঘ যাত্রায় তাও আশানুরূপ কিছু বয়ে আনবে না। তাহলে কেন শুরুতেই এই এপসটাকেই আন-ইন্সটল করছি না? কি উপকার হবে তার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। অপকারের দিকটা একবার ভাবুন। আশা করি তাহলেই বুঝতে পারবেন।

সাজেস্টেড বাই ইউটিউবারস

আপনার দেখা বা ফলো করা ইউটিউব চ্যানেলেও মাঝে মাঝে কিছু এপস রিভিউ পেয়ে যাবেন। আর তার কারণেই তার ডেসক্রিপশনে দেয়া লিংক থেকে যেয়ে ডাউনলোড করে নিতে পারেন এপসটি। ব্যাস আর কোনো সমস্যা নেই, তাই না?

একটু দাড়ান। কি ডাউনলোড করলেন তা কি দেখেছেন? হয়তো বা না। শুধু এক সাজেস্টের কারণেই ব্যবহার করা কি বোকামি হচ্ছে না? একটু ভাবুন। আমি বলছি না খারাপ হবেই। কিন্তু খারাপ হওয়ার চান্স তো আছেই,তাই না? তাহলে রিস্ক নেয়ার দরকারটা কোথায়? একটু ঘেটে দেখুন। আপনি ইউটিউবেই এ নিয়ে আরও সার্চ করুন। ব্লগ পড়ুন। একটা সিদ্ধান্তে আসুন। আপনার এপসটা দরকার আছে কি না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যান। তবে এর আগে কিছুই নয়। কেননা তা আপনাকে অজান্তেই বিভিন্ন ঘটনার ভুক্তভোগী করে ফেলতে পারে।

শেষকথা

হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনটা এখন আমাদের নিতান্তই প্রয়োজনীয় একটা বস্তু। তা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়তো বা নয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে। আর তাই এর ভালো দিকগুলোকে হাইলাইট করে তা থেকে উপকৃত হওয়াই হবে প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সাথে সাইবার ওয়ার্ল্ডেও দরকার এক নিরাপত্তার কেননা মানুষকে অন্যকে ধোকায় ফেলতে বসে আছে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছে বারবার। আশা করি উপরের টিপসটুকু একটু হলেও সচেতব করে তুলবে আপনাকে।