-->

জেনে নিন স্মার্টফোনের ৫টি গোপন ট্রিকস!

আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি আজ আপনার জন্য সবচেয়ে দরকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হয়ে উঠেছে। আমাদের ঘরের বিদ্যুতের বিল দেওয়া থেকে শুরু করে, খাবার অর্ডার এমনকি বিমানের টিকিট কিনতে আমরা আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি ব্যবহার করছি।

বন্ধুরা, আজকের এই আকর্ষণীয় পোস্টে, আমি আপনার জন্য কিছু টিপস এবং কৌশল শেয়ার করবো যেগুলো হয়তো আপনি জানতেন না!

মোবাইলের গোপন ট্রিকস

এবং হ্যাঁ, আমি অবশ্যই এই পোস্টটি অবশ্যই শেষ অবধি পড়ব, কারণ এই পোস্টের শেষের দিকে, আমি আপনাকে ব্যাটারি সেভিং ট্রিকস বলতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়াতে পারবেন

আরো দেখুন: ই-কমার্স সাইটে বিক্রি বাড়াতে ৬টি টিপস জেনে নিন

১. ফোনের আইএমইআই (IMEI) কীভাবে জানবেন?

বন্ধুরা, সবার আগে আমরা জানি যে এই আইএমইআই কি, এই আইএমইআই এর সম্পূর্ণ ফর্ম - আন্তর্জাতিক মোবাইল ডিভাইস সনাক্তকরণ এবং এই আইএমইআই আপনার ফোনের একটি ইউনিক সংখ্যা অর্থাৎ অন্যকারো মোবাইলের সাথে আপনার IMEI নাম্বার মিলবে না।

ইউনিক হওয়ার কারণে আইএমইআই দিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের জন্য করা হয় এবং লোকেশন শনাক্ত করা যায়। এখন আপনি আইএমইআই নম্বর দিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া ফোনটি ট্র্যাক করতে পারবেন, আপনি অবস্থানটি জানতে পারবেন এবং আপনার ফোনটিকে মোট ব্লক করতে পারবেন।

দেখুন: ৫টি সেরা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা ২০২১

তাহলে বন্ধুরা, এবার বুঝেই গেছেন এই নাম্বারের মানে কি আর গুরুত্ব কতটুকু। তাহলে এবার জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এই আইএমইআই নাম্বারটি বের করবেন।

আপনার আইএমইআই নম্বর জানতে আপনার ফোনে একটি নম্বর ডায়াল করতে হবে, এখন ডায়াল প্যাডটি খুলুন এবং এখানে টাইপ করুন *#06# আইএমইআই নম্বরটি আপনার স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।

২. কীভাবে আপনার ফোনের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করবেন?

বন্ধুরা অবশ্যই আমাদের ফোনে প্রচুর অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করে রাখি, যার মধ্যে কিছু কাজের যেগুলো আমরা সর্বদা ব্যাবহার করি এবং কিছু বাড়তি অ্যাপ শখের উপর ইনস্টল করে রাখি। সমস্যাটি তখনই শুরু হয় যখন সমস্ত অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন বার বার আসতে শুরু করে কারণ আমাদের ফোনে বারবার নোটিফিকেশন আসায় আমরা বিরক্ত হই। যা আমরা আমাদের কাজের দিকে ফোকাস করতে সমস্যার সৃষ্টি করে।

এ জাতীয় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন এড়াতে এড়াতে আপনাকে আপনার ফোনের সেটিংসে যেতে হবে, তারপর আপনার কাঙ্খিত অ্যাপগুলো ডিসেবল করে দিন। এতে আন ইনস্টল না করে অ্যাপগুলোর কাজ বন্ধ করতে পারবেন। আপনার ফোনে যদি ফ্রিজ করার ফাংশন থাকে তাহলে আপনি আপনার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ফ্রিজ করে রাখতে পারেন।

৩. কীভাবে ইন্টারনেট ডেটা অযথা ব্যয় করা বন্ধ করবেন?

একটা সময় ছিল যখন আমরা এক মাসের জন্য মাত্র ১ জিবি ডেটা নিতাম আর পুরোমাস সেই ১জিবি ডেটা দিয়েই চলে যেতো। কিন্তু এখন দিনে ১জিবির বেশি ডেটা লাগে আমাদের। কিন্তু কেনো?

প্রথমত এখন আর আগের মতো ১জিবি দিয়ে একমাস ইন্টারনেট চালানো সম্ভব না, কারণ সবকিছু আপডেট হয়েছে। নেটওয়ার্ক ৩জি থেকে ৪জি হয়েছে, এখন ইউটিউবে হাই কোয়ালিটি ভিডিও দেখলে এমনিতেই ১জিবি চলে যায়। তবে আমরা এই অতিরিক্ত ইন্টারনেট ডেটা খরচ বন্ধ করতে পারি, যে ডেটাগুলো শুধু শুধু ব্যয় হয়।

আরও দেখুন: কাজগুলো করলে ফেসবুক আইডি কখনোই হ্যাক হবে না

আপনার ইন্টারনেট ডেটা অযথা ব্যয় করা থেকে করতে করতে প্রথমে আপনার ফোনের সেটিং এ যান। ডেটা তথ্য থেকে জানতে পারবেন আপনার কিছু অ্যাপ না ব্যাবহার করার ফলেও ইন্টারনেট ডেটা খরচ করেছে। এটি অফ করতে আপনার ফোনের ব্যকগ্রাউন্ড ডেটা রেস্ট্রিকশন অপশনটি অন করে দিতে হবে। যার ফলে যে অ্যাপগুলো ইউজ করবেন না সেগুলো ব্যকগ্রাউন্ড ডেটা খরচ করবে না, কিছু হলেও আপনার ডেটা সাশ্রয় হবে।

৪. সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে কীভাবে পরীক্ষা করবেন?

যদি আপনি কোনও পুরানো মোবাইল নিচ্ছেন তবে প্রথমে এই ফোনটি যাচাই করার সর্বোত্তম উপায়টি আপনার প্রথমে জানা উচিত।

প্রথমে ফোনটির আইএমইআই দিয়ে জানতে পারবেন কবে থেকে এই ফোনটি ইউজ করা হচ্ছে অর্থাৎ সঠিক বয়স জানতে পারবেন। এবার আপনি ডায়াল প্যাডটি ওপেন করে টাইপ করুন *#0*# এবং ডায়াল করুন।

এবার আপনার স্ক্রিনে পুরো স্মার্টফোন টেস্ট মোডটি ওপেন হবে। এতে আপনি আরও অনেকগুলি অপশন দেখতে পাবেন, যা একে একে ক্লিক করে পুরো ফোনের হার্ডওয়্যার ঠিক আছে কিনা দেখতে পারবেন।

যেমন: - সাউন্ড টেস্ট, ভাইব্রেশন টেস্ট, ডিসপ্লে টেস্ট এবং টাচ টেস্ট ইত্যাদির মতো অনেকগুলি অপশন থাকবে যা ওই স্মার্টফোনের সমস্ত হার্ডওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা সহজেই পরীক্ষা করতে পারবেন।

৫. স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ কীভাবে বাড়ানো যায়?

কখনোই ফোন চার্জে বিষয়ে ফোনটি ইউজ করবেন না এতে ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। ফলে পরবর্তীতে আর নতুন ব্যাটারির মতো ব্যাকাপ পাবেন না।

মোবাইলের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর উপায়

ফোনের চার্জ সর্বদা ২০% থেকে ৮৫% এর মধ্যে রাখবেন। এটাই ব্যাটারির আদর্শ অবস্থা। ২০% এর নিচে নামলে চার্জে বসাবেন আর ৮৫% হলে চার্জ থেকে খুলে ফেলবেন।

যদিও এখনকার ফোনগুলোতে ওভার চার্জিং সমস্যা নেই এতে ফুল চার্জ হলে অটোমেটিক চার্জ নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

আর অবশ্যই দুর্বল ইন্টারনেট এমন এলাকায় নেট ইউজ করবেন না এতে আপনার ফোনের ব্যাটারি দ্রুত চার্জ শেষ হবে আর ফোনটিও গরম হবে। তাই স্ট্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন।

আজকাল অ্যামোলেড প্রযুক্তির ডিসপ্লে আমাদের স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর কালার কারেকশন আইপিএস ডিসপ্লের চেয়েও ভালো। তাই যখনই পর্দায় কালো রঙ প্রদর্শিত হয়, তখন অ্যামোলেড ডিসপ্লেয়ের সমস্ত ব্ল্যাক পিক্সেল থাকে।

এখন আমরা সবাই জানি যে ব্যাটারির ব্যয় বেশিরভাগই ফোনের স্ক্রিনের কারণে হয়ে থাকে, সুতরাং যদি আপনি আপনার ফোনে ব্ল্যাক ওয়ালপেপার বা ব্ল্যাক থিম ব্যবহার করেন তবে অ্যামোলেড ফোনের ব্যাটারি সমানভাবে ব্যয় করা হবে।

এই ছিলো আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের কিছু গোপন ট্রিকস। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

লিখেছেন: আনায়া রহমান আরজু